মাইনুল ইসলাম রাজু,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দা জুলমত খানের ছেলে নজরুল খান (৪৩)। পেশায় তিনি ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রী। প্রায় দুই বছর আগে নিজ বাড়িতে গাছ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে মেরুদণ্ড ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত পান। সেই থেকে তিনি শয্যাশায়ী। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক মাস চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অসহায় বাবা জুলমত খান ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন।সংসারের নিত্যদিনের অভাব-অনটনের সঙ্গে চিকিৎসার ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় এক বছর আগে স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে বৃদ্ধ বাবা-মাই শয্যাশায়ী নজরুলের একমাত্র অবলম্বন।যে বয়সে ছেলের বাবা-মায়ের সেবা করার কথা, সেই বয়সেই দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করে নজরুল হয়ে উঠেছেন তাদেরই দায়িত্ব। বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা-মা অমানুষিক কষ্ট সহ্য করেও ছেলের সেবাযত্ন করে চলেছেন।রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে কাদামাখা ও পিচ্ছিল মেঠোপথ পেরিয়ে খালি পায়ে নজরুলের বাড়িতে পৌঁছান আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনজুরুল হক কাওসার এবং উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী।পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরুলের পরিবারের হাতে শুকনো খাদ্যসামগ্রী এবং চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।নজরুলের বাবা জুলমত খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারিনি। প্রায় দুই বছর ধরে সে বিছানায় পড়ে আছে। যেখানে ছেলে আমাদের দেখাশোনা করবে, সেখানে আমরাই আজ ছেলের সেবা করছি। উপজেলা প্রশাসন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”এদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে একজন অসহায় ও শয্যাশায়ী মানুষের বাড়িতে গিয়ে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ায় স্থানীয়দের প্রশংসায় ভাসছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী। তার এই মানবিক উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।