ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
NEWS24 টেলিভিশন ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাংশায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের  মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা  অনুষ্ঠিত। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন অসুস্থ চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই। রাজবাড়ীর পাংশায় গড়াই নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের মাঝে  নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কিশোরগঞ্জে  মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন  ফারুয়া ইউনিয়নে হেডম্যান  রিনলম বম পালম এর নেতৃত্বে ২০০ পরিবারের মাঝে  এান বিতরণ গফরগাঁওয়ে কমরেড আজিম উদ্দীন মাস্টার এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই।

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

ডেস্ক, ২৭ জুলাই ২০২৬: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু আর নেই। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’, ‘তঅ চোখকুন দ চেই থেম’, ‘ধরিচ তুই মুই’ ও ‘রানজুনির সাত রঙ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর সৃষ্টিশীলতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।বিশেষ করে ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’ গানটি চাকমা সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতোমধ্যে ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। গানটি চাকমা গানের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।জানা যায়, আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু কলেজজীবনে ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’ গানটি রচনা করেন। পরে রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী বাবু ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা গানটিতে সুরারোপ করেন এবং ভারতের ত্রিপুরার উদীয়মান শিল্পী নভোনীল চাকমার কণ্ঠে গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং লক্ষ লক্ষ দর্শক-শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করে।সঙ্গীতাঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, বাবু ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী। তিনি নিরবে-নিভৃতে আজীবন সঙ্গীত সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। নিজের লেখা ও সুর করা গান নিয়ে তিনি কখনো আত্মপ্রচারে ব্যস্ত হননি। বরং তাঁর সৃষ্টিশীল কাজই তাঁকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। একসময় অসাধারণ স্টেজ পারফরমার হিসেবেও তিনি হাজারো দর্শক-শ্রোতার হৃদয় জয় করেন।বাবু দেওয়ানের স্বপ্ন ছিল চাকমা গানের ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সৌন্দর্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে গানে একটি নতুন ধারার সূচনা করা। ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও নিয়মিত চর্চা তাঁকে এই স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তবে আকস্মিক প্রয়াণে তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূর্ণতা পেল না।ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, উচ্ছল, নিরহংকার, সদালাপী ও বন্ধুবৎসল। তাঁর উপস্থিতিতে গানের আসর প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। পঞ্চাশোর্ধ বয়সেও তাঁর কণ্ঠ ছিল সজীব, কোমল ও তারুণ্যে ভরা বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা।তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, বাবু দেওয়ানের মতো গুণী শিল্পীরা যেন দ্রুতই বিদায় নেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রখ্যাত শিল্পী এবং অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’, ‘তঅ চোখকুন দ চেই থেম’, ‘ধরিচ তুই মুই’সহ তাঁর সৃষ্ট বহু গান তাঁকে মানুষের মাঝে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে।আশীষ কুমার দেওয়ান বাবুর মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর সৃষ্ট গান, সুর ও সঙ্গীতচর্চা আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই।

আপডেট সময় : ০৭:১৯:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

ডেস্ক, ২৭ জুলাই ২০২৬: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও সুরকার আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু আর নেই। গতকাল রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’, ‘তঅ চোখকুন দ চেই থেম’, ‘ধরিচ তুই মুই’ ও ‘রানজুনির সাত রঙ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান তাঁর সৃষ্টিশীলতার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।বিশেষ করে ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’ গানটি চাকমা সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতোমধ্যে ৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। গানটি চাকমা গানের অন্যতম জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।জানা যায়, আশীষ কুমার দেওয়ান বাবু কলেজজীবনে ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং তুই কায় এলে’ গানটি রচনা করেন। পরে রাঙ্গামাটির বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী বাবু ফনীন্দ্র লাল ত্রিপুরা গানটিতে সুরারোপ করেন এবং ভারতের ত্রিপুরার উদীয়মান শিল্পী নভোনীল চাকমার কণ্ঠে গানটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং লক্ষ লক্ষ দর্শক-শ্রোতার হৃদয় স্পর্শ করে।সঙ্গীতাঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, বাবু ছিলেন একজন বহুমুখী প্রতিভাধর শিল্পী। তিনি নিরবে-নিভৃতে আজীবন সঙ্গীত সাধনায় নিমগ্ন ছিলেন। নিজের লেখা ও সুর করা গান নিয়ে তিনি কখনো আত্মপ্রচারে ব্যস্ত হননি। বরং তাঁর সৃষ্টিশীল কাজই তাঁকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। একসময় অসাধারণ স্টেজ পারফরমার হিসেবেও তিনি হাজারো দর্শক-শ্রোতার হৃদয় জয় করেন।বাবু দেওয়ানের স্বপ্ন ছিল চাকমা গানের ঐতিহ্যবাহী সুরের সঙ্গে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সৌন্দর্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়ে গানে একটি নতুন ধারার সূচনা করা। ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ও নিয়মিত চর্চা তাঁকে এই স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তবে আকস্মিক প্রয়াণে তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূর্ণতা পেল না।ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, উচ্ছল, নিরহংকার, সদালাপী ও বন্ধুবৎসল। তাঁর উপস্থিতিতে গানের আসর প্রাণবন্ত হয়ে উঠত। পঞ্চাশোর্ধ বয়সেও তাঁর কণ্ঠ ছিল সজীব, কোমল ও তারুণ্যে ভরা বলে জানিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা।তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক ঘনিষ্ঠজন বলেন, বাবু দেওয়ানের মতো গুণী শিল্পীরা যেন দ্রুতই বিদায় নেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রখ্যাত শিল্পী এবং অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন। ‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’, ‘তঅ চোখকুন দ চেই থেম’, ‘ধরিচ তুই মুই’সহ তাঁর সৃষ্ট বহু গান তাঁকে মানুষের মাঝে চিরকাল বাঁচিয়ে রাখবে।আশীষ কুমার দেওয়ান বাবুর মৃত্যুতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সঙ্গীতাঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তাঁর সৃষ্ট গান, সুর ও সঙ্গীতচর্চা আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁকে স্মরণীয় করে রাখবে।