পীরগাছায় এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র কমিটি গঠনে অনিয়মের খবর প্রকাশের পরও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের
- আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়াসহ কেন্দ্র কমিটি গঠনে ব্যাপক অনিয়ম সংক্রান্ত খবর প্রকাশ হওয়ার ৪ দিনেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রকাশিত খবরে ব্যবহৃত নামের শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে অনুরোধের কৌশলে হুমকি দিয়ে লোভনীয় অফার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়, উপজেলার দেবী চৌধুরানী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন অবসর গ্রহন করায় উপাধ্যক্ষ তাহমিদুর রহমান সাবু ২০২৪ সালের মেয়ে মাস হতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ায় তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বিধিনিষেধ থাকায় সহকারি অধ্যাপকদের মধ্যে একজনকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার বিধান আছে। সেই সুযোগে কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাফিউল ইসলামকে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। এমপিও ইনডেক্স ও বেতন-ভাতা প্রদান শিট অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী অধ্যাপক সাফিউল ইসলামের অবস্থান ২৬ নম্বরে। শুধু তাই নয় এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি মুলক সভা না করেই, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিদুর রহমান সাবু নিজের মনগড়া মত একটি কমিটি করেন। যেই কমিটির সিনিয়র সহকারী অধ্যাপক হল সুপার আর জুনিয়র সহকারি অধ্যাপক হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নিজের সুবিধার্থে পরিপত্র অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করায় একেকজন সদস্য একাধিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখানেই শেষ নয় পরীক্ষার সংগে সংশ্লিষ্ট নয় এমন লোকজনও কেন্দ্রে অবস্থান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থানকারি সকলকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি গঠন না করায় সিনিয়র শিক্ষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অপর দিকে থানা থেকে দেবী চৌধুরাণী কলেজের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার হলেও দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার ছাড়াই প্রশ্ন নেওয়া ও উত্তর পত্র জমা দেওয়া হচ্ছে মোটরসাইকেলে করে। দায়িত্ব প্রাপ্ত (ট্যাগ) অফিসার ছাড়া মোটরসাইকেলে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র পরিবহণ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি অমান্য করে খেয়াল খুশিমতো প্রশ্নপত্র মোটরসাইকেলে নেওয়ায় নিরাপত্ত্বা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।এবিষয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম দাম্ভিকতার সহিত বলেন, আমি একাই মোটর সাইকেলে প্রশ্ন পত্র নিয়ে আসছি না, সকলেই নিচ্ছেন। আমার জন্য আইন কি আলাদা। তিনি আরো বলেন, নিয়ম মেনে কমিটি করেছি, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও খাতাপত্র সংরক্ষণ কারী হিসেবে আমি নিজে দায়িত্ব পালন করছি, হল সুপার গোলাম মোস্তফা রুবেল, প্রশ্নপত্র উত্তোলনকারী হিসেবে আজমল হোসেন তাতন দায়িত্বে আছেন।এই সকল অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত ৮ জুলাই দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকাসহ একাধিক জাতীয় দৈনিকে খবর পরিবেশিত হয়। পরিবেশিত সত্য খবরকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিদুর রহমান সাবু রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক বায়ান্নর আলো নামক পত্রিকায় গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রতিবাদের নামে একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।সহকারী অধ্যাপক হাফেজ শফিকুল ইসলাম বলেন, এই বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমাকে ডেকে নিয়ে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাদল ও দাতা সদস্য, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ইউনিয়ন সভাপতি হারুনুর রশিদ বাবলু বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকে নির্দেশনা দেন। অতএব কোন সত্য কথাও আমি আর স্বাভাবিকভাবেই বলতে পারছি না। যেহেতু আমি সেখানে চাকরি করি। তবে কেন ২৪ জন সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে ২৬ নম্বর শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হলো তা খতিয়ে দেখা দরকার।চৌধুরানী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাহমিদুর রহমান সাবু বলেন, সম্মান রক্ষার্থে বিজ্ঞাপন দিয়েছে, কলেজে আসেন, সাক্ষাতে কথা হবে, ফোনে কিছু বলা যাবে না।পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সকল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরাও মেনে নিয়েছেন আর মোটর সাইকেল প্রশ্ন পত্র নিবেন না। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রশ্ন পত্র বিতরণে/গ্রহনে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার/ট্যাগ উপস্থিত থাকাটা বাধ্যতামুলক না।দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, আগামি রবিবার অফিস টাইমে ফোন দিবেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ব্যাবস্থা নিতে বলব।






















