জলঢাকায় পশুর হাটে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা
- আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর জলঢাকায় কোরবানির পশুর হাটগুলোতে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায়ের মহোৎসব চলছে। কোনো প্রকার বৈধ রসিদ ছাড়াই জোরপূর্বক এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। হাটে এই জুলুমের প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে।
নির্ধারিত টোলের চেয়ে দ্বিগুণ আদায়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি গরুর হাটে ক্রেতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা রয়েছে। কিন্তু ইজারাদারদের নিয়োজিত লোকজন প্রতি গরুর রসিদ বাবদ ৮০০ টাকা এবং অতিরিক্ত ‘চাঁদা’ বা ‘খাজনা’ হিসেবে আরও ২০০ টাকা—সর্বমোট ১,০০০ টাকা আদায় করছেন। একইভাবে ছাগল প্রতি নির্ধারিত ২০০ টাকার পরিবর্তে অতিরিক্ত ২০০ টাকা চাঁদাসহ মোট ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
রসিদে এক দাম লিখে আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অন্য দাম। জলঢাকায় পশুরহাটে এরকম বেপরোয়া চাঁদাবাজি আমরা আগে কখনো দেখিনি।
— নাজমুল ইসলাম, ভুক্তভোগী ক্রেতা।
সাংবাদিকদের দেখে ইজারাদারদের দৌড়ঝাঁপ
অতিরিক্ত টোল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে হাটের ইজারাদার ও তাদের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অনেকে নানা অজুহাতে কৌশলে হাট থেকে গাঢাকা দেন। স্থানীয়দের দাবি, হাটের ইজারাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা
পশুরহাটের এই সিন্ডিকেট ও প্রকাশ্য চাঁদাবাজি বন্ধে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা ও এলাকাবাসী।
তবে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার মীরগঞ্জ হাটে অভিযান চালিয়ে মনো রায় নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারা মোতাবেক ৩,০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি জানান
”সরকার নির্ধারিত টোলের বাইরে এক টাকাও বেশি নেওয়ার নিয়ম নেই। কোনো হাটে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আসন্ন ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের মাঝে নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত জলঢাকার পশুরহাটগুলোকে এই চাঁদাবাজিমুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।





















