ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
NEWS24 টেলিভিশন ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাংশায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের  মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা  অনুষ্ঠিত। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন অসুস্থ চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই। রাজবাড়ীর পাংশায় গড়াই নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের মাঝে  নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কিশোরগঞ্জে  মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন  ফারুয়া ইউনিয়নে হেডম্যান  রিনলম বম পালম এর নেতৃত্বে ২০০ পরিবারের মাঝে  এান বিতরণ গফরগাঁওয়ে কমরেড আজিম উদ্দীন মাস্টার এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

রাঙামাটির পার্বত্য জেলায় মৌসুমি ফলের দাম ন্যায্য মূল্য না থাকায় কৃষকের হাহাকার।

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

​পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বনরুপা সমতা ঘাটে এখন ভরা মৌসুমের ফলের সমাহার। তবে এই ভরা মৌসুমেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে কৃষকদের এখন চরম হতাশ। বাজারে বেহাল অবস্থায় আমের দরপতন আর কাঁঠাল-জাম সহ বিভিন্ন ফলের নজিরবিহীন কম দামে পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের পুঁজি তোলা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে।
​বনরুপা সমতা ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নৌকা ও ট্রলারে করে পাহাড় থেকে আনা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল ও আনারস। I সমতা ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে আনারস ও কাঁঠালের বড় বড় চালান। এছাড়া ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হরেক জাতের আম দেখা গেলেও, এই ফলগুলোর পেছনে যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি শত কাঁঠাল ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং প্রতি শত লিচু ২০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।এমন পরিস্থিতির শিকার রাঙামাটির প্রান্তিক চাষিরা, তারা জানান, হুট করে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানের ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর বাজারের এই দরপতন তাদের হতাশ করে তুলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূল পুঁজিটাই উঠবে না।বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি এবং ফলের দ্রুত পচনশীলতা তাদের বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, ‘পরিবহন বা ক্যারিং খরচ অনেক বেশি। আবার ফল খুব দ্রুত পচনশীল, ফলে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পাইকাররাও ফলের দাম কম বলছেন।’বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না করলে আগামীতে পাহাড়ের ফল চাষিরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাঙামাটির পার্বত্য জেলায় মৌসুমি ফলের দাম ন্যায্য মূল্য না থাকায় কৃষকের হাহাকার।

আপডেট সময় : ০১:২১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

চিরন বিকাশ দেওয়ান,রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

​পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বনরুপা সমতা ঘাটে এখন ভরা মৌসুমের ফলের সমাহার। তবে এই ভরা মৌসুমেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে কৃষকদের এখন চরম হতাশ। বাজারে বেহাল অবস্থায় আমের দরপতন আর কাঁঠাল-জাম সহ বিভিন্ন ফলের নজিরবিহীন কম দামে পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের পুঁজি তোলা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে।
​বনরুপা সমতা ঘাট ঘুরে দেখা যায়, নৌকা ও ট্রলারে করে পাহাড় থেকে আনা হয়েছে প্রচুর পরিমাণে আম, কাঁঠাল ও আনারস। I সমতা ঘাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা হয়েছে আনারস ও কাঁঠালের বড় বড় চালান। এছাড়া ঝুড়িতে সাজিয়ে রাখা হরেক জাতের আম দেখা গেলেও, এই ফলগুলোর পেছনে যে শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় বিক্রয়মূল্য অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। এছাড়া প্রতি শত কাঁঠাল ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা এবং প্রতি শত লিচু ২০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা।এমন পরিস্থিতির শিকার রাঙামাটির প্রান্তিক চাষিরা, তারা জানান, হুট করে আঘাত হানা কালবৈশাখী ঝড়ে বাগানের ফলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার ওপর বাজারের এই দরপতন তাদের হতাশ করে তুলেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বর্তমান বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মূল পুঁজিটাই উঠবে না।বাজারের ব্যবসায়ীদের ভাষ্য ভিন্ন। তারা বলছেন, পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি এবং ফলের দ্রুত পচনশীলতা তাদের বড় ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ব্যবসায়ী আনোয়ার জানান, ‘পরিবহন বা ক্যারিং খরচ অনেক বেশি। আবার ফল খুব দ্রুত পচনশীল, ফলে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। যে কোনো সময় ব্যবসায় বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় পাইকাররাও ফলের দাম কম বলছেন।’বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সংরক্ষণের হিমাগার না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে হিমাগার স্থাপন ও সরাসরি বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা না করলে আগামীতে পাহাড়ের ফল চাষিরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।