ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার পাওয়া গেল ১৫কোটি ৯০লাখ ৮০হাজার ১৪৬ টাকা।
- আপডেট সময় : ০২:১৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার পাওয়া গেল ১৫কোটি ৯০লাখ ৮০হাজার ১৪৬ টাকা।১৩ টি দান সিন্দুকে ৪৩ বস্তা টাকা গণনা করে এবার এ টাকা পাওয়া গেছে। টাকা রূপালী ব্যাংকের হিসাবে জমা করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।৬ মাস পর শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টায় পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খুলে পাওয়া গেছে ৪৩ বস্তা টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।দান বাক্সগুলো খোলার পর টাকা গণনা সকাল থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় রাত পৌনে নয়টায়।জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরের ঐতিহাসিক এ মসজিদে লোহার দানসিন্দুকগুলো সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর খোলা হয়।এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ১৩ টি দান বাক্সে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর দানসিন্ধুক খোলা হয়। এবার ৬মাস পর দানসিন্দুক খোলা হয়েছে। পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ টাকা । প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদের ২য় তলায় মেঝেতে ঢেলে গণনার কাজ শুরু হয়। পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের নূরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদাসার ১০৬ জন ও আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়ার ৩০০ জন ছাত্র, ৩৫ জন শিক্ষক ও স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন স্টাফ এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ১৯ জন সহ প্রায় ৫৯০ জন টাকা গণনার কাজে অংশ নেন।এসময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এর নেতৃত্বে সকাল ৭টায় ১৩ টি দানসিন্দুক খোলা হয়।এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফসহ ১৮জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছী, মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পাগলা মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম নির্দশন। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মসজিদটি স্থাপিত। জনশ্রুতী আছে, সহীহ্ নিয়তে এ মসজিদে দান করলে মানুষের মনের আশা পূরণ হয়। সে জন্য দূরদূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে এসে দান করে থাকেন।মানুষ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও মসজিদটিতে দান করে থাকেন ।পাগলা মসজিদ এর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১১৪ কোটি ১৩ লক্ষ ৬০হাজার ৩৫২ টাকা ও অনলাইনে জমা হয়েছে ২৪ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮ শত ৮২ টাকা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।























