জলঢাকায় ষড়যন্ত্রের বলি শিক্ষক শ্লীলতাহানির শিকার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সপরিবারে উচ্ছেদের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০১:০৬:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃনুরুজ্জামান,নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ড ডা্ঙ্গাপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক কোচিং শিক্ষককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, তাঁর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং সপরিবার উচ্ছেদসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ১৩ জুলাই ২০২৬ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকের স্ত্রী সাতোয়ারা বেগম। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি স্বামী নুর আলম লালের নিঃশর্ত মুক্তি, সাজানো মামলা প্রত্যাহার এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাতোয়ারা বেগম জানান, প্রায় চার বছর আগে আব্দুল বারেক (পিতা: তসর উদ্দিন) নামে এক ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে দুটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরবর্তীতে জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে আইনি সহায়তার সুবাদে বারেক তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তাঁর স্বামী নুর আলম লাল সরল বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আব্দুল বারেককে দুই দাগে ৩ শতাংশ জমি সাব-কবলা লিখে দেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “জমি পাওয়ার পর বারেকের লোভ আরও বেড়ে যায়। সে আমাদের পৈতৃক বসতভিটা দখল করার পাঁয়তারা শুরু করে। আমরা বাড়তি জমি দিতে অস্বীকার করায় সে আমাদের প্রতি চরম শত্রুতা শুরু করে এবং আমাদের শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।”
অভিযোগ করা হয়, এই জমি বিরোধের সূত্র ধরে গত ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় আব্দুল বারেক তাঁর মাত্র ৬ বছরের নাবালিকা কন্যাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষক নুর আলম লালের বিরুদ্ধে একটি সম্পূর্ণ সাজানো ও ভিত্তিহীন ‘ধর্ষণ চেষ্টার’ অভিযোগ আনেন। ওই দিন সন্ধ্যায় বারেক বহিরাগত কিছু লোকজন ভাড়া করে এনে এলাকায় কৃত্রিম গণউত্তেজনা সৃষ্টি করেন। এরপর স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে নুর আলম লালকে নির্মমভাবে মারধর করতে করতে প্রকাশ্য রাস্তায় টেনে-হেঁচড়ে থানায় নিয়ে যান। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গেলে সাতোয়ারা বেগমকেও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলেও জানান তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবারটি জানায়, জনপ্রিয় শিক্ষক নুর আলম লাল বর্তমানে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকে আব্দুল বারেক ও তার সহযোগীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন অবলীলায় বাড়িঘর দখল এবং পরিবারের সবাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন সাতোয়ারা বেগম।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘটনার সঠিক সত্যতা উন্মোচনে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অসহায় পরিবারটির জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বিনীত ও জোর আকুতি জানানো হয়েছে।





















