হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে জলঢাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ
- আপডেট সময় : ০১:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃনুরুজ্জামান,নীলফামারী প্রতিনিধি
অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা। সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, বৈধ পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান এবং শ্রম আইনের পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়নের দাবিতে একাট্টা হয়েছেন স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি শ্রমিকেরা। সম্প্রতি জলঢাকায় আয়োজিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে শ্রমিকদের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভের চিত্র ফুটে ওঠে।বঞ্চনার অবসান ও আইনি সুরক্ষার দাবিসমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে হোটেল ও বেকারি খাতের শ্রমিকেরা দিনরাত পরিশ্রম করলেও, এখনো অধিকাংশ শ্রমিক তাদের ন্যায্য মজুরি ও চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। অনেক প্রতিষ্ঠানেই দেওয়া হয় না কোনো নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র, যার ফলে যেকোনো সময় চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে থাকেন তারা।”শ্রমিকদের অধিকার শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না, মাঠপর্যায়ে শ্রম আইনের শতভাগ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”
— বক্তব্য, প্রতিবাদ সমাবেশ
সমাবেশ থেকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশন অনুযায়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। বক্তারা বলেন, কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিক নিহত হলে তার পরিবারকে আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যেন অবহেলায় কোনো শ্রমিকের পরিবার পথে না বসে।শাওন হত্যার বিচার ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি অধিকার আদায়ের এই সমাবেশ থেকে রংপুরের আলোচিত শাওন হত্যা মামলার প্রসঙ্গটিও জোরালোভাবে উঠে আসে। মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের টালবাহানা বা কালক্ষেপণ বন্ধ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম আইন বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা আক্তারুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) আবু সাইদ লিওন এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারী জেলা হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলিয়ার রহমান।শ্রমিক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এই পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি অতি দ্রুত শ্রমিকদের এই ন্যায্য ও মানবিক দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।























