সরকার গঠনের ৫ মাসেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই: মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ।
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ডেক্স প্রতিবেদন
২৯ জুলাই ২০২৬ ইং বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও ১৯৯৭ সালের ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি’ বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।এ পরিস্থিতি নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে অবিলম্বে একটি জাতীয় কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’-এর উদ্যোগে ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ৫ মাস: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগণেরও আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রযোজ্য।১৯৯৭ সালে চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেও এর মৌলিক ধারাগুলো বাস্তবায়ন করেনি; বরং দমন-পীড়ন ও অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করেছে।বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার তাদের ঘোষিত ৩১ দফায় বহুজাতিক ও বহুত্ববাদী ‘রেইনবো নেশন’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি।পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিরতার মধ্যে রেখে দেশে টেকসই শান্তি, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অধিকারহীনতার অবসান ঘটেনি। নিরাপত্তার অজুহাতে সেখানে কার্যত এক ধরনের অঘোষিত সামরিক শাসন ও অতিমাত্রায় সামরিকীকরণ বহাল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে।তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পার্বত্য সমস্যা কেবল পাহাড়ের কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, এটি দেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের প্রশ্ন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করার জন্য অবিলম্বে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা জরুরী।অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তি কোনো একক দলের কৃতিত্ব নয়, এরশাদ সরকার, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সবার আলোচনার পথ ধরেই এটি অর্জিত হয়েছিল।বর্তমান সরকার দ্রুত এ সমস্যা নিরসনে এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের পর রাষ্ট্র নিজে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাই এর পূর্ণাঙ্গ ও আন্তরিক বাস্তবায়নের দায়িত্বও রাষ্ট্রের।কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফি রতন ও বাসদের ফজলুল রশিদ ফিরোজ পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভূমি সমস্যা, আদিবাসী পরিচয় নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর সাম্প্রতিক বিভিন্ন হামলার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হলেও গত ৫ মাসে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৬টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়:১. পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অবিলম্বে একজন পাহাড়ি প্রতিনিধিকে পূর্ণমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়া এবং চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রীকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।২. চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য বিদ্যমান উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও কার্যকর করা।৩. চুক্তি বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।৪. দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন করা।
৫. প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করে ‘পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন’ দ্রুত কার্যকর করা।
৬. অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নীতিনির্ধারণী সংলাপের আয়োজন করা।
বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, সমতা, ন্যায়বিচার এবং টেকসই জাতীয় সংহতি অর্জনের স্বার্থে পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
























