উত্তরায় ভুয়া সাংবাদিক সেজে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি, দুই নারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজধানীর উত্তরা এলাকার আব্দুল্লাহপুরে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে দুই নারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ফারজানা ও শামিমা নামের ওই দুই নারীর অপকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা। গত ১৫ মে বিকেলে আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই চক্রটির অপতৎপরতা নতুন করে আলোড়নে এসেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে পাওনা রুম ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে রুপালি নামের এক নারীর ওপর চড়াও হন ফারজানা ও শামিমা। আব্দুল্লাহপুরে মিজানের ডাবের দোকানের সামনে প্রকাশ্যে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে দুই নারী মিলে রুপালির ওপর শারীরিক হামলা চালালে, আত্মরক্ষার্থে তিনিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের ঘটনার পর ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে উল্টো রুপালির বিরুদ্ধেই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শামিমা। ওই অভিযোগে তার আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের দাবি করা হয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ছিনতাইয়ের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে মূল ঘটনার কোনো মিল নেই বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।অনুসন্ধানে জানা যায়: ফারজানা ও শামিমা নিজেদের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে কোনো স্বীকৃত সংবাদপ্রতিষ্ঠানে তাদের কর্মসংস্থানের প্রমাণ মেলেনি। মূলত প্রেস কার্ডের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করাই তাদের মূল পেশা।অনুসন্ধানে এই চক্রের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক সাজিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। একই কায়দায় চট্টগ্রামের এক যুবকের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আব্দুল্লাহপুরের একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সাংবাদিকতার মতো একটি সম্মানজনক পেশার অপব্যবহার করে এই ধরনের অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে চলছে। এদের কারণে প্রকৃত সৎ সাংবাদিকরা সমাজে বিব্রত হচ্ছেন।এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই ভুয়া সাংবাদিক চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।





















