ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকার গঠনের ৫ মাসেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই: মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ। NEWS24 টেলিভিশন ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাংশায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের  মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা  অনুষ্ঠিত। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন অসুস্থ চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই। রাজবাড়ীর পাংশায় গড়াই নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের মাঝে  নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কিশোরগঞ্জে  মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন  ফারুয়া ইউনিয়নে হেডম্যান  রিনলম বম পালম এর নেতৃত্বে ২০০ পরিবারের মাঝে  এান বিতরণ

সাক্ষীর অভাবে থমকে যাওয়া বিচার: এক প্রতিবন্ধী পিতার আর্তনাদ ও আইনি লড়াই ত্যাগের ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

​নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বামনকোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মাসুদ রানা (সুমন) এক বুক হাহাকার নিয়ে তার দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিজ্ঞ আমলী আদালত, গুরুদাসপুর, নাটোরে দায়েরকৃত সি.আর-৬৫১/২০২৪ (গুরু) মামলার মাধ্যমে নিজের পৈত্রিক ও দখলকৃত জমিতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ এবং ফসল নষ্টের বিচার চেয়েছিলেন তিনি। মামলার ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪২৭/৫০৬ (II) দণ্ডবিধির অধীনে দায়েরকৃত এই মামলায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
​মামলার আরজি ও ভুক্তভোগীর বয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ০৫/১২/২০২৪ তারিখ সকালে ১১ জন আসামি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুদ রানার ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। আসামিরা সেখানে রোপণকৃত খেজুরি কলাই ও খেসারি কলাই উপড়ে ফেলে এবং কীটনাশক ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করে দেয়। এতে অসহায় এই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রায় ৮০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে এবং তার পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে আসামিরা।
​অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা
​মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিম্নরূপ:
​১. মো: সোরাব মন্ডল (৬৫), পিতা- মৃত সমেত মন্ডল।
​২. মো: লতিফ মন্ডল (৫০), পিতা- মৃত সমেত মন্ডল।
​৩. মো: সরোয়ার মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সোরাব মন্ডল।
​৪. মো: নূর মন্ডল (৩৫), পিতা- মো: সোরাব মন্ডল।
​৫. মো: নিজাম মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৬. মো: নাজিম মন্ডল (৩৫), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৭. মো: মিজান মন্ডল (৩০), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৮. মো: নাজমুল মন্ডল (৩০), পিতা- মো: লতিফ মন্ডল।
​৯. মো: রিপন মন্ডল, পিতা- মো: লতিফ মন্ডল।
​১০. মো: কাশেম প্রামাণিক, পিতা- মৃত আবুল প্রামাণিক।
​১১. মো: রাজু মন্ডল (৩০), পিতা- মৃত রুস্তম মন্ডল।
​বিঃদ্রঃ: অভিযুক্ত সকল আসামিই নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানাধীন মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
​এক প্রতিবন্ধী পিতার চরম অসহায়ত্ব
​নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি মাসুদ রানার দুই সন্তান সাদিয়া পারভীন মুক্তা ও আনাস ইকবাল আসিরও গুরুতর প্রতিবন্ধকতার শিকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ভার এবং সন্তানদের চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​আজ নির্ধারিত দিনেও সাক্ষী না হওয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখে তিনি জানিয়েছেন, যে মামলা চালাতে গিয়ে অন্য নিরপরাধ সাক্ষীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে, তেমন মামলা তিনি আর চালাতে চান না। তিনি বলেন, “আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে সাক্ষীগণ প্রাণভয়ে আদালতে আসতে পারছেন না। নিজের অধিকার আদায়ের চেয়ে অন্যের জীবনের নিরাপত্তা আমার কাছে বড়।”
​মাসুদ রানার এই ঘোষণা কেবল একটি মামলা থেকে সরে আসা নয়, বরং এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার কাছে একজন অসহায় নাগরিকের আর্তনাদ। তিনি তার ও তার পরিবারের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাক্ষীর অভাবে থমকে যাওয়া বিচার: এক প্রতিবন্ধী পিতার আর্তনাদ ও আইনি লড়াই ত্যাগের ঘোষণা

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

​নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বামনকোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মাসুদ রানা (সুমন) এক বুক হাহাকার নিয়ে তার দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিজ্ঞ আমলী আদালত, গুরুদাসপুর, নাটোরে দায়েরকৃত সি.আর-৬৫১/২০২৪ (গুরু) মামলার মাধ্যমে নিজের পৈত্রিক ও দখলকৃত জমিতে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ এবং ফসল নষ্টের বিচার চেয়েছিলেন তিনি। মামলার ধারা ১৪৩/৪৪৭/৪২৭/৫০৬ (II) দণ্ডবিধির অধীনে দায়েরকৃত এই মামলায় তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা।
​ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ
​মামলার আরজি ও ভুক্তভোগীর বয়ান সূত্রে জানা যায়, গত ০৫/১২/২০২৪ তারিখ সকালে ১১ জন আসামি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুদ রানার ভোগদখলীয় জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। আসামিরা সেখানে রোপণকৃত খেজুরি কলাই ও খেসারি কলাই উপড়ে ফেলে এবং কীটনাশক ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করে দেয়। এতে অসহায় এই প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রায় ৮০,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে এবং তার পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে আসামিরা।
​অভিযুক্ত আসামিদের তালিকা
​মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন আসামির বিস্তারিত পরিচয় নিম্নরূপ:
​১. মো: সোরাব মন্ডল (৬৫), পিতা- মৃত সমেত মন্ডল।
​২. মো: লতিফ মন্ডল (৫০), পিতা- মৃত সমেত মন্ডল।
​৩. মো: সরোয়ার মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সোরাব মন্ডল।
​৪. মো: নূর মন্ডল (৩৫), পিতা- মো: সোরাব মন্ডল।
​৫. মো: নিজাম মন্ডল (৪০), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৬. মো: নাজিম মন্ডল (৩৫), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৭. মো: মিজান মন্ডল (৩০), পিতা- মো: সালেম মন্ডল।
​৮. মো: নাজমুল মন্ডল (৩০), পিতা- মো: লতিফ মন্ডল।
​৯. মো: রিপন মন্ডল, পিতা- মো: লতিফ মন্ডল।
​১০. মো: কাশেম প্রামাণিক, পিতা- মৃত আবুল প্রামাণিক।
​১১. মো: রাজু মন্ডল (৩০), পিতা- মৃত রুস্তম মন্ডল।
​বিঃদ্রঃ: অভিযুক্ত সকল আসামিই নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানাধীন মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
​এক প্রতিবন্ধী পিতার চরম অসহায়ত্ব
​নিজে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি মাসুদ রানার দুই সন্তান সাদিয়া পারভীন মুক্তা ও আনাস ইকবাল আসিরও গুরুতর প্রতিবন্ধকতার শিকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার পক্ষে আইনি লড়াইয়ের ব্যয়ভার এবং সন্তানদের চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​আজ নির্ধারিত দিনেও সাক্ষী না হওয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখে তিনি জানিয়েছেন, যে মামলা চালাতে গিয়ে অন্য নিরপরাধ সাক্ষীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে, তেমন মামলা তিনি আর চালাতে চান না। তিনি বলেন, “আসামিদের অব্যাহত হুমকির মুখে সাক্ষীগণ প্রাণভয়ে আদালতে আসতে পারছেন না। নিজের অধিকার আদায়ের চেয়ে অন্যের জীবনের নিরাপত্তা আমার কাছে বড়।”
​মাসুদ রানার এই ঘোষণা কেবল একটি মামলা থেকে সরে আসা নয়, বরং এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থার কাছে একজন অসহায় নাগরিকের আর্তনাদ। তিনি তার ও তার পরিবারের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন।