ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির নবাগত কমিটির  শপথ গ্রহন সম্পন্ন।  সরকার গঠনের ৫ মাসেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই: মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ। NEWS24 টেলিভিশন ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাংশায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের  মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা  অনুষ্ঠিত। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন অসুস্থ চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই। রাজবাড়ীর পাংশায় গড়াই নদীর ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বিলাইছড়িতে পাহাড়ি ঢলে মৃত্যুবরণকারী পরিবারের মাঝে  নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান কিশোরগঞ্জে  মাদকবিরোধী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬ সম্পন্ন 

আইনি সেবা দোরগোড়ায় জলঢাকায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন

মোঃ নুরুজ্জামান,নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃনুরুজ্জামান নীলফামারী

উপান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এবং ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ বাজার হাইস্কুল হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের আইনি প্রক্রিয়া ও এর সুফল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।কেন বাড়ছে গ্রাম আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা?আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো আইনি জটিলতা এবং আদালতের মোটা অঙ্কের খরচ বহন করতে হিমশিম খায়। এমন পরিস্থিতিতে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধগুলো স্থানীয় পর্যায়েই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিষ্পত্তি করছে গ্রাম আদালত।বক্তাদের আলোচনায় গ্রাম আদালতের প্রধান ৩টি সুফল ও জনপ্রিয়তার কারণ উঠে আসে:স্বল্প ব্যয়: নামমাত্র খরচে এখানে মামলার আবেদন করা যায়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।দ্রুত নিষ্পত্তি: দীর্ঘদিনের মামলা জট এড়িয়ে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব হয়।আস্থার প্রতীক: দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ায় দিন দিন এই আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা দুই-ই বাড়ছে।আলোচনা সভার সভাপতিত্ব ও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দের বক্তব্যজলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন কোনো নাগরিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”গ্রাম আদালত গ্রামীণ সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক যুগান্তকারী মাধ্যম। এই সেবার পরিধি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি।”— অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:

​কামরুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
​কোহিনূর বেগম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ।
​বঙ্কিম চন্দ্র রায়, প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
​মোসলেম উদ্দিন, সদস্য (মেম্বার), ৬নং ওয়ার্ড।
​সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
​বার্ষিক এই ক্যাম্পেইনে শুধু জনপ্রতিনিধিরাই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী এবং বালাগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
​উপস্থিত সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের এই প্রচারণামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সচেতনতার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে মামলার প্রবণতা ও দীর্ঘসূত্রতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং গ্রামীণ সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আইনি সেবা দোরগোড়ায় জলঢাকায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন

আপডেট সময় : ১০:৪০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

মোঃনুরুজ্জামান নীলফামারী

উপান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সহজে আইনি সেবা পৌঁছে দিতে এবং ছোটখাটো বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ বাজার হাইস্কুল হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে গ্রাম আদালতের আইনি প্রক্রিয়া ও এর সুফল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।কেন বাড়ছে গ্রাম আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা?আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো আইনি জটিলতা এবং আদালতের মোটা অঙ্কের খরচ বহন করতে হিমশিম খায়। এমন পরিস্থিতিতে ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধগুলো স্থানীয় পর্যায়েই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিষ্পত্তি করছে গ্রাম আদালত।বক্তাদের আলোচনায় গ্রাম আদালতের প্রধান ৩টি সুফল ও জনপ্রিয়তার কারণ উঠে আসে:স্বল্প ব্যয়: নামমাত্র খরচে এখানে মামলার আবেদন করা যায়, যা দরিদ্র মানুষের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।দ্রুত নিষ্পত্তি: দীর্ঘদিনের মামলা জট এড়িয়ে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত সম্ভব হয়।আস্থার প্রতীক: দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ায় দিন দিন এই আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা দুই-ই বাড়ছে।আলোচনা সভার সভাপতিত্ব ও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দের বক্তব্যজলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হয়। তিনি তাঁর বক্তব্যে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান, যেন কোনো নাগরিক আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”গ্রাম আদালত গ্রামীণ সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এক যুগান্তকারী মাধ্যম। এই সেবার পরিধি ও কার্যকারিতা সম্পর্কে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের সচেতন হওয়া জরুরি।”— অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন:

​কামরুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা।
​কোহিনূর বেগম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বালাগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ।
​বঙ্কিম চন্দ্র রায়, প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
​মোসলেম উদ্দিন, সদস্য (মেম্বার), ৬নং ওয়ার্ড।
​সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
​বার্ষিক এই ক্যাম্পেইনে শুধু জনপ্রতিনিধিরাই নন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংবাদকর্মী এবং বালাগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
​উপস্থিত সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের এই প্রচারণামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই সচেতনতার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে মামলার প্রবণতা ও দীর্ঘসূত্রতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং গ্রামীণ সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় থাকবে।