নতুন কুঁড়িতে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার ডাবল গোল্ড, তার স্বপ্ন এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চ।
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
মারিয়ার গলায় ঝুলেছে দুটি স্বর্ণপদক। কিন্তু কিশোরগঞ্জে এখনও নেই অ্যাথলেটদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সুযোগের অভাবে প্রতি বছরই হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে আরও অনেক মারিয়া। তাই এই সাফল্য শুধু উদযাপনের নয়, নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য সুযোগ তৈরিরও একটি বার্তা। কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই দ্রুততম মানবী মারিয়া এখন স্বপ্ন দেখছে এ্যাথলেটে অলিম্পিক ছোঁয়ার। সরকার কিংবা সংশ্লীষ্ট দপ্তর যদি তার পরিচর্যা খানিকটা বাড়াতে পারে। হয়তবা তার হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জল হবে।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সেহড়া পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরন মিয়ার ছয় সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মারিয়া।স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। প্রতিদিন গ্রামের দুর্গম মেঠোপথ পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে আসতে হতো তাকে। আর্থিক অনটনের পাশাপাশি সমাজের নানা প্রতিবদ্ধকতা। কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তার দৌড়। এবার এই গতিমানবীর নজর আন্তর্জাতিক মহলে।দারিদ্র্য ছিল, ছিল দুর্গম পথ, কাদামাটি আর সীমাহীন সংগ্রাম। কিন্তু কোনো বাধাই থামাতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ১৪ বছর বয়সী মারিয়া আক্তার তাসফিয়াকে। প্রতিদিন গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে অনুশীলনে গিয়ে এবার জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ জিতেছে দুটি স্বর্ণপদক। এখন তার স্বপ্ন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চ।১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ১৩ দশমিক ৭৫ সেকেন্ড আর ২০০ মিটারে ২৮ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড।দুই ইভেন্টেই সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে জাতীয় ট্র্যাকে নিজের আধিপত্যের জানান দিয়েছে মারিয়া। কিন্তু এই সাফল্যের গল্প কেবল টাইমিংয়ের নয়, এটি সংগ্রামেরও গল্প।দৌড় শেষ, স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাস, আর বিজয়ের আনন্দে ছুটে যাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এই স্নেহের স্পর্শ যেনো নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।এই মেয়েটিই কিশোরগঞ্জের মারিয়া আক্তার তাসফিয়া।মাত্র ১৪ বছর বয়সেই জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”-এ ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে জিতে নিয়েছে দুটি স্বর্ণপদক।মেয়ের এই সাফল্যে আপ্লুত বাবা ও পরিবারের লোকজন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে অনটন আর নানা প্রতিবন্ধকতায় একসময় মেয়ের অনুশীলন বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম ছিল। কিন্তু মেয়ের হার না মানা জেদের কারনে আজ এই সাফল্যে চোখে আনন্দের জল।মারিয়ার এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে পুরো গ্রাম। স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছে এখন সে এক অনুপ্রেরণার নাম।প্রতিবেশীরা বলছেন, খেলাধুলার কারনে একসময় যে মেয়ে নানা বাধার সম্মুখিন হতো, আজ সে পুরো কিশোরগঞ্জের গর্ব।মারিয়ার এ সাফল্যে আবেগ আপ্লুত গতিমানবীর পেছনের কারিগর আব্দুল জব্বার। তিনি বলছেন এটি শেষ নয় বরং শুরু।সঠিক পুষ্টি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা পেলে এই মেয়েই একদিন বাংলাদেশের হয়ে এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিক ট্র্যাকে দৌড়াতে পারবে।জেলা ক্রীড়া অফিসারও মারিয়ার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।ক্রীড়া বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।













