ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবহেলায় আমতলীর মহাশ্মশানঘাট, উন্নয়নের অপেক্ষায় ৩০ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী খুলনা-মোংলা মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণের দাবিতে রামপালে পথসভা মাদকাসক্তি মুক্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে সবজির দামে সাধারণ মানুষ হতাশ কিশোরগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির নবাগত কমিটির  শপথ গ্রহন সম্পন্ন।  সরকার গঠনের ৫ মাসেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই: মতবিনিময় সভায় ক্ষোভ। NEWS24 টেলিভিশন ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে রাজবাড়ীর পাংশায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের  মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা  অনুষ্ঠিত। বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোঃ জাকির হোসেন অসুস্থ চাকমা গানের সংগীত শিল্পী আশীষ কুমার দেওয়ান,‘স্ববন পারত ফুল ফুদেবং’–এর গীতিকার ও সুরকার বাবু দেওয়ান আর আমাদের মাঝে নেই।

নতুন কুঁড়িতে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার ডাবল গোল্ড, তার স্বপ্ন এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ

 

মারিয়ার গলায় ঝুলেছে দুটি স্বর্ণপদক। কিন্তু কিশোরগঞ্জে এখনও নেই অ্যাথলেটদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সুযোগের অভাবে প্রতি বছরই হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে আরও অনেক মারিয়া। তাই এই সাফল্য শুধু উদযাপনের নয়, নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য সুযোগ তৈরিরও একটি বার্তা।  কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই দ্রুততম মানবী মারিয়া এখন স্বপ্ন দেখছে এ্যাথলেটে অলিম্পিক ছোঁয়ার। সরকার কিংবা সংশ্লীষ্ট দপ্তর যদি তার পরিচর্যা  খানিকটা বাড়াতে পারে। হয়তবা তার হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জল হবে।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সেহড়া পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরন মিয়ার ছয় সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মারিয়া।স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। প্রতিদিন গ্রামের দুর্গম মেঠোপথ পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে আসতে হতো তাকে।  আর্থিক অনটনের পাশাপাশি সমাজের নানা প্রতিবদ্ধকতা। কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তার দৌড়। এবার এই গতিমানবীর নজর আন্তর্জাতিক মহলে।দারিদ্র্য ছিল, ছিল দুর্গম পথ, কাদামাটি আর সীমাহীন সংগ্রাম। কিন্তু কোনো বাধাই থামাতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ১৪ বছর বয়সী মারিয়া আক্তার তাসফিয়াকে। প্রতিদিন গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে অনুশীলনে গিয়ে এবার জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ জিতেছে দুটি স্বর্ণপদক। এখন তার স্বপ্ন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চ।১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ১৩ দশমিক ৭৫ সেকেন্ড আর ২০০ মিটারে ২৮ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড।দুই ইভেন্টেই সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে জাতীয় ট্র্যাকে নিজের আধিপত্যের জানান দিয়েছে মারিয়া। কিন্তু এই সাফল্যের গল্প কেবল টাইমিংয়ের নয়, এটি সংগ্রামেরও গল্প।দৌড় শেষ, স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাস, আর বিজয়ের আনন্দে ছুটে যাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এই স্নেহের স্পর্শ যেনো নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।এই মেয়েটিই কিশোরগঞ্জের মারিয়া আক্তার তাসফিয়া।মাত্র ১৪ বছর বয়সেই জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”-এ ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে জিতে নিয়েছে দুটি স্বর্ণপদক।মেয়ের এই সাফল্যে আপ্লুত বাবা ও পরিবারের লোকজন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে অনটন আর নানা প্রতিবন্ধকতায় একসময় মেয়ের অনুশীলন বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম ছিল। কিন্তু মেয়ের হার না মানা জেদের কারনে আজ এই সাফল্যে চোখে আনন্দের জল।মারিয়ার এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে পুরো গ্রাম। স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছে এখন সে এক অনুপ্রেরণার নাম।প্রতিবেশীরা বলছেন,  খেলাধুলার কারনে একসময় যে মেয়ে নানা বাধার সম্মুখিন হতো, আজ সে পুরো কিশোরগঞ্জের গর্ব।মারিয়ার এ সাফল্যে আবেগ আপ্লুত গতিমানবীর পেছনের কারিগর আব্দুল জব্বার। তিনি  বলছেন এটি শেষ নয় বরং শুরু।সঠিক পুষ্টি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা পেলে এই মেয়েই একদিন বাংলাদেশের হয়ে এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিক ট্র্যাকে দৌড়াতে পারবে।জেলা ক্রীড়া অফিসারও মারিয়ার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।ক্রীড়া বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নতুন কুঁড়িতে কিশোরগঞ্জের মারিয়ার ডাবল গোল্ড, তার স্বপ্ন এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ

 

মারিয়ার গলায় ঝুলেছে দুটি স্বর্ণপদক। কিন্তু কিশোরগঞ্জে এখনও নেই অ্যাথলেটদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। সুযোগের অভাবে প্রতি বছরই হয়তো হারিয়ে যাচ্ছে আরও অনেক মারিয়া। তাই এই সাফল্য শুধু উদযাপনের নয়, নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য সুযোগ তৈরিরও একটি বার্তা।  কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই দ্রুততম মানবী মারিয়া এখন স্বপ্ন দেখছে এ্যাথলেটে অলিম্পিক ছোঁয়ার। সরকার কিংবা সংশ্লীষ্ট দপ্তর যদি তার পরিচর্যা  খানিকটা বাড়াতে পারে। হয়তবা তার হাত ধরেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জল হবে।কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সেহড়া পূর্বপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক হিরন মিয়ার ছয় সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে ছোট মারিয়া।স্থানীয় আলহাজ ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। প্রতিদিন গ্রামের দুর্গম মেঠোপথ পেরিয়ে জেলা স্টেডিয়ামে অনুশীলনে আসতে হতো তাকে।  আর্থিক অনটনের পাশাপাশি সমাজের নানা প্রতিবদ্ধকতা। কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তার দৌড়। এবার এই গতিমানবীর নজর আন্তর্জাতিক মহলে।দারিদ্র্য ছিল, ছিল দুর্গম পথ, কাদামাটি আর সীমাহীন সংগ্রাম। কিন্তু কোনো বাধাই থামাতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ১৪ বছর বয়সী মারিয়া আক্তার তাসফিয়াকে। প্রতিদিন গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে অনুশীলনে গিয়ে এবার জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ জিতেছে দুটি স্বর্ণপদক। এখন তার স্বপ্ন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চ।১০০ মিটার স্প্রিন্টে মাত্র ১৩ দশমিক ৭৫ সেকেন্ড আর ২০০ মিটারে ২৮ দশমিক ৯৯ সেকেন্ড।দুই ইভেন্টেই সবার আগে ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করে জাতীয় ট্র্যাকে নিজের আধিপত্যের জানান দিয়েছে মারিয়া। কিন্তু এই সাফল্যের গল্প কেবল টাইমিংয়ের নয়, এটি সংগ্রামেরও গল্প।দৌড় শেষ, স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাস, আর বিজয়ের আনন্দে ছুটে যাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এই স্নেহের স্পর্শ যেনো নতুন স্বপ্নের অনুপ্রেরণা।এই মেয়েটিই কিশোরগঞ্জের মারিয়া আক্তার তাসফিয়া।মাত্র ১৪ বছর বয়সেই জাতীয় শিশু-কিশোর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস”-এ ১০০ ও ২০০ মিটার স্প্রিন্টে জিতে নিয়েছে দুটি স্বর্ণপদক।মেয়ের এই সাফল্যে আপ্লুত বাবা ও পরিবারের লোকজন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে অনটন আর নানা প্রতিবন্ধকতায় একসময় মেয়ের অনুশীলন বন্ধ হয়ে পড়ার উপক্রম ছিল। কিন্তু মেয়ের হার না মানা জেদের কারনে আজ এই সাফল্যে চোখে আনন্দের জল।মারিয়ার এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে পুরো গ্রাম। স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের কাছে এখন সে এক অনুপ্রেরণার নাম।প্রতিবেশীরা বলছেন,  খেলাধুলার কারনে একসময় যে মেয়ে নানা বাধার সম্মুখিন হতো, আজ সে পুরো কিশোরগঞ্জের গর্ব।মারিয়ার এ সাফল্যে আবেগ আপ্লুত গতিমানবীর পেছনের কারিগর আব্দুল জব্বার। তিনি  বলছেন এটি শেষ নয় বরং শুরু।সঠিক পুষ্টি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ আর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা পেলে এই মেয়েই একদিন বাংলাদেশের হয়ে এশিয়ান গেমস কিংবা অলিম্পিক ট্র্যাকে দৌড়াতে পারবে।জেলা ক্রীড়া অফিসারও মারিয়ার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।ক্রীড়া বৃত্তি, আর্থিক সহায়তা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা।