কিশোরগঞ্জে মাসব্যাপী বাতাসে উড়ছে গ্যাস।
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

চুনা পাথর কারখানায় অবৈধ সংযোগের চেষ্টায় গ্যাসের মূল সঞ্চালন লাইনে লিকেজ – দাবী স্থানীয়দের

খায়ের আহম্মদ খন্দকার লিমন,স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ
দেশজুড়ে যখন চলছে তীব্র গ্যাস সংকট, তখন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নদীর তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইন থেকে প্রায় এক মাস ধরে অনবরত বের হচ্ছে গ্যাস। নদীর পানিতে উঠছে বুদবুদ, বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র গন্ধ। জাতীয় সম্পদের এমন অপচয় এবং গ্যাস লিকেজ জনমনেও তৈরি করেছে ব্যাপক আতঙ্ক।কোথাও চুলা জ্বলছে নিভু নিভু কোথাও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘ লাইন। চালক-যাত্রীর ভোগান্তির চিত্র ভোর থেকে রাত। আর ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জের একটি নদীতে প্রায় এক মাস ধরে অবিরাম বেরিয়ে যাচ্ছে গ্যাস। পানির ওপর উঠছে অসংখ্য বুদবুদ। বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে গ্যাসের তীব্র গন্ধ। এভাবেই চোখের সামনেই অপচয় হচ্ছে জাতীয় সম্পদ।কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদীর তলদেশে থাকা তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইনে তৈরি হয়েছে এই লিকেজ।নদীর একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে একটানা বের হচ্ছে গ্যাস। দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে গ্যাস বের হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এতে যেমন জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে, তেমনি যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও।জানা যায়, কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুনা পাথর কারখানা চালুর চেষ্টা করছিল একটি পক্ষ। এ সময় মূল পাইপলাইনে লিকেজ সৃষ্টি হলে গ্যাস নির্গমণ শুরু হয়।এলাকাবাসীর অভিযোগ , নদীর তলদেশে থাকা এই পাইপলাইন থেকে একটি চুনা পাথর কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই সময়ই পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে লিকেজের সৃষ্টি হয়। তবে এই অভিযোগ এখনো নিশ্চিত করেনি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এদিকে লিকেজের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিশোরগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনের চাপও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিতাস গ্যাস বলছে, এটি মনোহরদী থেকে কিশোরগঞ্জ ডিআরএস পর্যন্ত গ্যাস পরিবহনের উচ্চচাপের মূল সঞ্চালন লাইন। এ লাইন থেকে সরাসরি কোনো গ্রাহককে গ্যাস দেওয়া হয় না। তবে কীভাবে পাইপলাইনে ছিদ্র হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নদীর তীব্র স্রোত, পানির চাপ এবং তলদেশে মাটি ধসে পড়ায় মেরামত কাজও জটিল হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে কারখানাটি উচ্ছেদ করে। এ সময় কারখানার তিনটি চুল্লি ভেঙে ফেলা হয় এবং মজুদ চুনাপাথর জব্দ করা হয়।সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা এ অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে একটা চুনাপাথর কারখানা স্থাপনের উদ্যােগ নেওয়া হয়েছিল, তবে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। সেখানে তিনটি চুল্লি নির্মান করা হয়েছিল এবং চুনাপাথর মজুদ রাখা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তিতাসের পাইপলাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে কারখানা চালানো কিন্তু সংযোগ নেওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে এবং পাইপলাইন থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে। লাবনী আক্তার তারানা আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কারখানাটি আর চালু করা না যায়, সে জন্য চুল্লি গুলো সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। জব্দ করা চুনাপাথর ও চুল্লির ইট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।জানা যায়, পাইপলাইনের লিকেজ বন্ধে কাজ করছে তিতাস গ্যাস কতৃপক্ষ। স্থানীয়দের দাবি, শুধু লিকেজ বন্ধ নয়, কীভাবে এই ঘটনা ঘটল এবং এর জন্য কারা দায়ী, সেটিও দ্রুত উদঘাটন করে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হউক।



















