সরকারের বাজেট বনাম গৃহহীন, ভূমিহীন, ভাসমান তাদেরও গুনতে হবে বছরে বিশ হাজার টাকার বেশি… অথই নূরুল আমিন
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি
বতর্মান সরকারের এতো বড়ো মোটা অংকের বাজেটের কারণে প্রথমত দেশের প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি তো হবেই। সেখানে সবসময় সিন্ডিকেট থাকবে সক্রিয়। মাঝে মাঝে বিভিন্ন নিত্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে রাতারাতি দুই গুণ – তিন গুণেরও বেশি। যার ফলে দেশের অভাবী প্রতিটা নাগরিকের বছরে গুনতে হবে প্রায় বিশ হাজার টাকারও বেশি!দেশের একজন বড়ো মাপের ব্যবসায়ী কর পরিশোধ করেন খাতা কলমে লিখিত আকারে। যার একটা গননা রাজস্বতে হিসাব থাকে। কিন্তু দেশের গৃহহীন,ভূমিহীন ও ভাসমান লোকগুলো এমনকি একজন ভিক্ষুকেরও বছরে তার প্রায় বিশ হাজার টাকারও বেশি খরচা হবে। এটা শুধুমাত্র নিত্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে। নিম্ন আয়ের জনগণের সঞ্চয় করা তো দূরের কথা ঋণের ভারে আরো নতজানু হতে হবে যা সত্যি কথা।চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ এর জুন পর্যন্ত, দেশের নিম্ন আয়ের জনগণের জন্য কঠিন পরীক্ষার বছর চলছে। বিগত চব্বিশ বছরের ভিতরে এমন কঠিন অভাবের বছর এই প্রথম শুরু হলো। চাল, ডাল,তেল, চিনিসহ একান্ত প্রয়োজনীয় প্রায় চল্লিশটি পণ্য রয়েছে, যা দেশের গরিব জনগণের কিনতে গিয়ে ঘাম ঝরবে শরীরের প্রতিনিয়ত ।এখানে কথা থাকে যে, প্রায় দশ লাখ কোটি টাকার বাজেট বতর্মান সরকার ঘোষণা করেছে। এর একটা অংশ বিদেশী ঋণ নেয়া হবে । তারও আবার গুনতে হবে লাভ। আরেকটি অংশ বিবিধ খাত থেকে আসবে।বাকি অংশ সবই ভ্যাট ও ট্যাক্স থেকে উঠানো হবে। এখানে আরো কথা থাকে যে, ব্যবসায়ীদের উপরে নতুন করে যখন সরকার ভ্যাট প্রয়োগ করতে যাবে । তখনই ব্যবসায়ীরারা তাদের স্টকের পণ্য বা আমদানি করা পণ্যের দাম একটু বাড়িয়েই বিক্রি করবে। এখানে সরকার ও নীরব থাকতে বাধ্য হবে তখন। আবার বাণিজ্য সচিব তো অভিনয়ে পাকা সবগুলো। ব্যবসায়ীরা কেজিতে দশ টাকা পণ্যের মূল্য বাড়াবে। তখনই বাণিজ্য সচিব সাংবাদিক ডেকে বলবে দুই টাকা কমিয়ে বেচার নির্দেশ দেয়া হলো। সাপ ও মরল লাঠি ও ভাঙ্গলো না মহাশয়।তাহলে আসলে কি দাড়ালো? “যেই লাউ সেই কদু ” সেই বুঝাটা কিন্তু সেই খেটে খাওয়া গরিব লোকেরাই বলির পাঠা হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। তবে এই বছরটা আরেকটু আলাদা অর্থাৎ খরচটা বেশি হবে জনগণের।এদিকে যদি একটু আলোকপাত করি। তা হলো যারা সরকারি চাকরি করছেন । সরকার বলছে তাদের বেতন বাড়ানো হবে। এর মানে এই সরকার ও সরকারি কর্মচারিদেরকে তেল মারতে শুরু করেছে। যার ফলে তারা সবাই অফিসে বসে মুচকি হাসি হাসছে। অন্য দিকে যাদের ভূমি আছে। অর্থাৎ অনেকের ভাড়া যোগ্য বাড়ি বা ফ্যাট আছে। তারা তাদের ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছে ইচ্ছে মতো দেখার কেউ নেই । আবার তারাই কোন চাকরি বা ব্যবসা করছেন । যার পরিমাণ মোট জনসংখ্যার ১৫% প্রায়। তাদের বেলায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি হলে খুব একটা গায়ে লাগবে না, কারণ তারাও তাদের বাড়ি ভাড়া ফ্ল্যাট ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন।অন্য দিকে দেখা যায়, অনেক পরিবার আছে তারা নিজ বাড়িতে, নিজ ঘরে অবস্থান করছেন বিধায় ভাড়ার আলাদা আট দশ পনেরো বা বিশ হাজার টাকা লাগছে না প্রতি মাসে। তারাও হয়তো কেউ কৃষি, কেউ চাকরি,কেউ ব্যবসা করছেন অথবা প্রবাসে আছেন। এর পরিমাণ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০%। উপরে উল্লেখিত জনসংখ্যার জন্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি কিছুটা গায়ে লাগলেও জ্বলা পোড়া খুব শুরু হবে না।আরেকটু আলোচনা না করলেই নয়। দেশের মোট জনসংখ্যার ৩% ভাগ লোকজন,বতর্মান সরকার বিএনপি ভক্ত এবং বিরোধী দল জামায়াত ভক্ত। তারাও সহ্য করেই চলবেন কিছু বলবেন না, বিশেষ করে চায়ের দোকানে বসে।এখানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশের প্রায় ১২% জনগণ তারা সবাই স্বচ্ছল অর্থনৈতিকভাবে। তাই তারাও নীরব থাকবেন। কিন্তু কথা থাকে যে, সকল বেদনা, সকল কষ্ট ভূমিহীন,গৃহহীন,জনগণের উপরে যারা ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাদের জন্য ঘর ভাড়া বৃদ্ধি পাবে । স্কুল ফি বাড়বে, কোচিং ফি বাড়বে। গাড়ী ভাড়া বাড়বে। সাথে চল্লিশটির মতো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি তো আছেই। ক্ষুদ্র আয়ের ভাসমান লোকেরাও কষ্টে পরবেন দারুণভাবে। তার কারণ তাদের একমাত্র আয়ের পথ হচ্ছে নিত্য শ্রম। এছাড়া আর কোন আয়ের উৎস নেই।কথা থাকে যে, বেশকিছু অনিয়ম দুর্নীতি স্বেচ্ছাচারিতার জন্য আদিম কাল থেকে সাধারণ জনগণের জনরোষে বা বিরোধীতার জন্য সর্দার প্রথা থেকে শুধু করে আমীর প্রথা রাজা – বাদশাহ জমিদার তালুকদার প্রথা কিন্তু বিলুপ্তি হতে বাধ্য হয়েছে। যা কখনও ফেরত আসবে বলেও মনে হচ্ছে না। আমাদের এই ক্ষুদ্র দেশে প্রতি বছর যদি এক লাখ কোটি টাকা দেড় লাখ কোটি টাকা দুই লাখ কোটি টাকা বাড়িয়েই বাজেট প্রণয়ন করতে থাকে সরকারের পর সরকার এসে। আমার কেমন যেন সন্দেহ হচ্ছে। একদিন এরকম দুই নম্বর ভোট প্রথা দল প্রথা সত্যি সত্যি বাতিল করার জন্য সাধারণ জনগণ লেগে যায় কিনা? প্রিয় পাঠক আশাকরি কমেন্ট করবেন।
অথই নূরুল আমিন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক
প্রধান মুখপাত্র জাতীয় মানবসম্পদ উইং
প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়ন উপদেষ্টা গ্রন্থ লেখক।
১৩ জুন ২০২৬





















