ইউএনও’র আচরণ নিয়ে ফেসবুকে জামায়াত নেতার স্ট্যাটাস
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

পীরগাছা (রংপুর)প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রত্যাশিত সৌজন্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমীর ও তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল।
মঙ্গলবার (২ জুন ২৬) রাতে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে বজলুর রশিদ মুকুল দাবি করেন, গত ১৪ মে ২৬, কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নবযোগদানকারী ইউএনও’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি সুধী সমাবেশের আমন্ত্রণপত্রও দেওয়া হয়।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, সাক্ষাৎকালে ইউএনও তাদের বক্তব্য কিছুটা অনাগ্রহ বা বিরক্তির সঙ্গে শুনছিলেন বলে তার মনে হয়েছে। তিনি এটিকে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি বলেও উল্লেখ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের আগে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করার বিষয়টি বিরক্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বজলুর রশিদ মুকুল লেখেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে দায়িত্বের অংশ মনে করি। কিন্তু সাক্ষাৎ শেষে আমার মনে হয়েছে, আমরা প্রত্যাশিত আন্তরিকতা ও সৌজন্যতা পাইনি।”
তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎ শেষে তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনীভিত্তিক গ্রন্থ ‘সিরাতে ইবনে হিশাম’ ইউএনওকে উপহার দেন। তবে বইটি গ্রহণের ধরন তাকে হতাশ করেছে বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
একপর্যায়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই কি ইউএনও মহোদয় স্বাভাবিক সৌজন্যতা প্রদর্শন করতে পারেননি, নাকি বিষয়টি শুধুই আমার ভুল ধারণা?”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও’র মুঠোফোনে যোগাযোগের করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, ইউএনও স্যার বর্তমানে ছুটিতে আছেন। আমি দায়িত্বে আছি,এগুলো বিষয়ে অফিস সময়ে যোগাযোগ করবেন, গভীর রাতে যোগাযোগ করা শিষ্টাচারসম্মত নয়। একটা বিষয়ে মন্তব্য চেয়েছেন আসলে আমার মন্তব্য হচ্ছে ”খুব দরকার বা ইমারজেন্সী না হলে এতো রাতে ফোন দিবেন না!
স্থানীয়রা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টাটাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন।


















