জলঢাকার ধর্মপাল ভূমি অফিস তালাবদ্ধ পতাকা উড়লেও কর্মকর্তা নেই
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

মোঃনুরুজ্জামান, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্ধারিত সময়ে তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। অফিসে যথানিয়মে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা থাকলেও, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। একই সাথে উক্ত অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) বলরাম রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ নির্ধারিত সরকারি কার্যদিবসে ধর্মপাল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসেন বহু মানুষ। অফিসে সরকারি নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা থাকলেও, মূল ফটক ও ভেতরের কক্ষগুলো তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। জমির খাজনা, দাখিলা, নামজারি (মিউটেশন) সহ জরুরি নানা কাজের জন্য এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ মানুষকে। তীব্র রোদ ও গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হওয়ায় উপস্থিত মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ সময় অফিসে উপস্থিত একাধিক সেবাগ্রহীতা তহশিলদার বলরাম রায়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, “এই অফিসে এসে কোনো কাজ সহজে পাওয়া যায় না। তহশিলদার বলরাম রায় আমাদের কাছ থেকে সরকারি ফির চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা নেন। কিন্তু কাজ শেষে যখন রশিদ (স্লিপ) দেওয়া হয়, তখন দেখা যায় মূল টাকার চেয়ে অনেক কম টাকার স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখান। আজকেও আমরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।”
অফিস বন্ধ থাকার বিষয়ে এবং সেবাগ্রহীতাদের তোলা এই ‘অধিক পরিমাণে অর্থ নিয়ে কম টাকার স্লিপ দেওয়া’র অভিযোগের ব্যাপারে জানতে ধর্মপাল ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) বলরাম রায়ের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি অফিস বন্ধের বিষয়ে জানান, তিনি অফিশিয়াল ও সরকারি কাজে ধর্মপাল গড়ের হাট’ এলাকায় অবস্থান করছেন। তবে কর্মদিবসে পুরো অফিস কেন জনবলশূন্য রেখে তালাবদ্ধ রাখা হলো—এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও কম টাকার স্লিপ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর এভাবে তালাবদ্ধ রেখে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মতো অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন তথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ, তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।





















