বুড়ি তিস্তায় বেপরোয়া বালু সিন্ডিকেট হুমকির মুখে ফসলি জমি ও পরিবেশ
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

মোঃ নুরুজ্জামান, নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় বুড়ি তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের উৎসব যেন থামছেই না। কোনো প্রশাসনিক নজরদারি কিংবা আইনের তোয়াক্কা না করে দিন-রাত সমান তালে চলছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের বেপরোয়া বালু কারবার। এতে নদী তীরের শত শত একর ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং চলাচলের পথ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সাথে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বুড়ি তিস্তার একাধিক পয়েন্টে আধুনিক বোমা মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হচ্ছে। ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে বিকট শব্দে অতিষ্ঠ জনজীবন, অন্যদিকে ভারী টলি বালু বহনের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এতে পথচারীসহ কোমলমতি শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বলেন, চেল্লাই মামুদ বলেন বাঁধ কেটে নিধন করেছে সব মহলে না-কি তাদের হাতে পথচারী হাসিবুল বলেন আমরা চরের সাধারণ মানুষ আমাদের চলাচলের জন্য ভোগান্তি
”নদী থেকে যেভাবে বালু কাটা হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষায় আমাদের ভিটেমাটি নদীগর্ভে চলে যাবে। ধূলিবালির কারণে রাস্তায় চলাচল করা যায় না, শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনকে একাধিকবার জানানোর পরও কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।”
পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, নদী থেকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক ও অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার ফলে কেবল ভাঙনই বাড়ে না, নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় ইকোসিস্টেম স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এটি অদূর ভবিষ্যতে পুরো এলাকার কৃষি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দেবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সিন্ডিকেটের সদস্যরা অত্যন্ত চতুর—প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেলেই তারা গা-ঢাকা দেয় এবং সুযোগ বুঝে আবার বালু উত্তোলন শুরু করে। খুব শিগগিরই এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
তবে কেবল সাময়িক জরিমানা বা লোকদেখানো অভিযানে আস্থা পাচ্ছেন না স্থানীয়রা। বুড়ি তিস্তাকে রক্ষা করা, কৃষকের জমি বাঁচানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এই বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।



















