স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত চেয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সহ ১৩১ জন সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি প্রদান
- আপডেট সময় : ০১:২১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬ ১৫৯ বার পড়া হয়েছে

রণিকা বসু (মাধুরী),বিশেষ প্রতিনিধি
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্তি চেয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ , মাননীয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর , মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ , মাননীয় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দা ইসলাম অমিত, মাননীয় হুইপ এ্যাডঃ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাননীয় হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মাননীয় হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মাননীয় সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সহ সরকার দলীয় ৭৮ জন সংসদ সদস্য এবং বিরোধী দলীয় ৪৭ জন মাননীয় সংসদ সদস্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত ১জন মাননীয় সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত ৩ জন মাননীয় সংসদ সহ মোট ১৩১ জন মাননীয় সংসদ সদস্য ডিও লেটার দিয়েছেন।
এর পূর্বে ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রি: রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা শামসুল হক আনছারী এর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব হাফেজ মাওঃ মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেন-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্থায়ী কমিটির প্রধান উপদেষ্টা জনাব মোঃ শামছুল আলম, সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলাম ফরাজি ও মহাসচিব মোঃ রেজাউল হক, সহ-সভাপতি হাফেজ আহমদ আলী, নুরুন্নবী, কার্যনির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা মোঃ গোলাম আজম, সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, যুগ্ম মহাসচিব এস এম নজরুল ইসলাম ও জেলা উপজেলার দায়িত্বশীল সহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন- ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পাঠদান স্বীকৃতি ও রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়েও বিনা-বেতনে পাঠদান করে আসছি। বর্তমান সরকারের সময় আমরা ২১ মে হতে ১৮ জুন পর্যন্ত টানা ২৯ দিন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ/এমপিওভুক্তির দাবী নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছি। অত:পর ১৮ জুন ২০২৬ খ্রি: তারিখ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়ের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আস্থা রেখে অবস্থান কর্মসূচী স্থগিত করে পাঠদান কার্যক্রমে ফিরে যাই। একই সাথে আমাদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মাননীয় সংসদ সদস্যরা শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার প্রেরণ করেছেন। তদুপুরী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ/এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না।
শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক বিগত ২৮ জানুয়ারী ২০২৫ খ্রি: সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীকরণ ঘোষণার দেড় বছর হলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ ১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাও জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্ত করে নেই। যার ফলে প্রায় ৬০হাজার শিক্ষক/শিক্ষকা কর্মরত থেকেও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অপরদিকে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহিত একই হলে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ট্যালেন্টপুল/সাধারণ বৃত্তি পাওয়ার পরেও আমাদের শিক্ষার্থীদের মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক মেধাবৃত্তির টাকা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এবিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগসহ বারবার যোগাযোগ করলেও অদ্যাবধি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে নেই। অথচ বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের নিকট পরীক্ষার ফিস নিয়েছে ১০০ টাকা আর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের থেকে পরীক্ষার ফিস ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এছাড়াও ১০/০৮/২০২৫ খ্রি: তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদিত শূণ্য পদে কর্মরত শিক্ষকদের বেতনভাতা ছাড় করার জন্য নির্দেশনা থাকলেও আজ ১১ মাস ধরে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বিভিন্ন অজুহাতে শূণ্য পদে কর্মরত শিক্ষকদের বেতনভাতা ছাড় করে নেই। যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আজ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে স্থায়ী মহা-পরিচালক নেই। শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন থাকা সত্বেও সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা মিলে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা কোনো শাখা নেই। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য নির্ধারিত স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই। সেহেতু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে। এমতাবস্থায় বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী মহোদ্বয়ের নিকট আমাদের দাবী সমূহ নিম্নরুপ:
১। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী এমপিও আবেদনকৃত প্রতিষ্ঠানের দ্রুত এমপিও প্রজ্ঞাপন জারি ও অনুদানবিহীন প্রতিষ্ঠানের এমপিও আবেদনের গণবিজ্ঞপ্তি জারিকরণ।
২। ১০/০৮/২০২৫ খ্রি: তারিখ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদিত শূণ্য পদে কর্মরত
শিক্ষকদের বেতনভাতা জুলাই ২০২৬ এর সাথে ছাড়করণ।
৩। বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তির টাকা আগস্ট ২০২৬
এর মধ্যে প্রদানের ব্যবস্থা করা।
৪। ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা শাখা খোলা ও স্থায়ী কর্মকর্তা দেওয়া।
দাবী পূরণ না হলে আগামী কর্মসূচী :
১। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দেশের সকল জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন।
২। ০৪ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয় শিক্ষক ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ।




















