ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জলঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও ১৩৩ পরিবারে ঈদ উপহার বিতরণ তারাকান্দা রামপুর খালের ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর মাধ্যমে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন ময়মনসিংহে তিনদিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালার উদ্ভোধন অনুষ্ঠিত শাহ আরেফিন সড়কে বালুবাহী গাড়ির দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে এলাকাবাসী মসিকের নতুন বাজারে ফুটপাত দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা সামাজিক সচেতনতা ও আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত আইনি সেবা দোরগোড়ায় জলঢাকায় গ্রাম আদালতের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বার্ষিক ক্যাম্পেইন যুবসমাজকে রক্ষায় বাদাঘাট ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ অনুষ্ঠিত সভায় পুরস্কার বিতরণ রামপালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ‘স্পিড ব্রেকার দিন, কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচান’

মোঃ নুরুজ্জামান নীলফামারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মোঃনুরুজ্জামান,নীলফামারী প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিনিয়ত ঝরছে রক্ত, কেড়ে নেওয়া হচ্ছে নিরীহ প্রাণ। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় এক কোমলমতি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা।আজ (১৪ জুন) উপজেলার পশ্চিম গোলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিক্ষার্থী জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যানবাহনের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।‘আমার ছেলের মতো আর যেন কারও বুক খালি না হয়’মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আহত শিক্ষার্থীর বাবা সুজন ইসলাম (সুজন মিয়া) আবেগঘন কণ্ঠে বলেন”এই রাস্তায় বরাবরই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ছেলে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে, আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবার বুক খালি না হয়, সেজন্য আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”তিনি অনতিবিলম্বে ওই স্থানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানান।ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের সামনের এই ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণেই আজ বারবার শিশুদের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ৪ দফা দাবি বিদ্যালয়ের সামনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান

১. স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণ বিদ্যালয়ের ঠিক সামনে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করতে হবে।
​২. জেব্রা ক্রসিং কোমলমতি শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য স্পষ্ট জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
​৩. সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড গাড়িচালকদের সচেতন করতে “সামনে বিদ্যালয়, গতি কমান” সম্বলিত পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।
​৪. ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ স্কুল শুরু এবং ছুটির সময়ে রাস্তা পারাপারের জন্য বিশেষ ট্রাফিক বা শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
​ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে শত শত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
​উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি কামনা
​কর্মসূচির একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে অনতিবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদূরপ্রসারী ও সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। একই সাথে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জলঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ‘স্পিড ব্রেকার দিন, কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচান’

আপডেট সময় : ০১:০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

মোঃনুরুজ্জামান,নীলফামারী প্রতিনিধি

বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিনিয়ত ঝরছে রক্ত, কেড়ে নেওয়া হচ্ছে নিরীহ প্রাণ। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় এক কোমলমতি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা।আজ (১৪ জুন) উপজেলার পশ্চিম গোলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে শিক্ষার্থী জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী একটি যানবাহনের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নীলফামারী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।‘আমার ছেলের মতো আর যেন কারও বুক খালি না হয়’মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আহত শিক্ষার্থীর বাবা সুজন ইসলাম (সুজন মিয়া) আবেগঘন কণ্ঠে বলেন”এই রাস্তায় বরাবরই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেক শিশু, কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধ প্রাণ হারিয়েছেন। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার ছেলে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে, আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই। কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাবার বুক খালি না হয়, সেজন্য আমি প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”তিনি অনতিবিলম্বে ওই স্থানে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানান।ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ের সামনের এই ব্যস্ততম সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিষয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতা ও উদাসীনতার কারণেই আজ বারবার শিশুদের জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে।শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ৪ দফা দাবি বিদ্যালয়ের সামনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মানববন্ধন থেকে আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের কাছে ৪টি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান

১. স্পিড ব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণ বিদ্যালয়ের ঠিক সামনে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করতে হবে।
​২. জেব্রা ক্রসিং কোমলমতি শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য স্পষ্ট জেব্রা ক্রসিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
​৩. সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড গাড়িচালকদের সচেতন করতে “সামনে বিদ্যালয়, গতি কমান” সম্বলিত পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে।
​৪. ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ স্কুল শুরু এবং ছুটির সময়ে রাস্তা পারাপারের জন্য বিশেষ ট্রাফিক বা শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
​ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে শত শত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সর্বস্তরের এলাকাবাসী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
​উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাস ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি কামনা
​কর্মসূচির একপর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনের এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে অনতিবিলম্বে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদূরপ্রসারী ও সদয় দৃষ্টি কামনা করেন। একই সাথে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন করা না হয়, তবে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।